দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, স্বল্পন্নোত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নতুন নতুন কৌশল হাতে নিতে হবে। তবে সে জন্য সরকারি সংস্থাগুলোতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই।
জাতীয় অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনা, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ও রূপকল্প ২০৪১ অর্জনবিষয়ক এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। এলডিসি–পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি সংস্থাগুলোতেও দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের কার্যালয়ে আজ রোববার সকালে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম শামসুদ্দোহা। আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, পরিচালক বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, মো. নাসের, সৈয়দ আলমাস কবির প্রমুখ। এফবিসিসিআইয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, সরকার ঘোষিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর্মসংস্থান তৈরিতে শিল্পায়নের নানা কার্যক্রম হাতে নিচ্ছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, পোশাক কারখানাগুলো ১৫ থেকে ২০ শতাংশ দক্ষ জনশক্তি ঘাটতিতে রয়েছে। ব্যবস্থাপনার নানা পদে বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের অভাব না থাকলেও শিল্পের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব রয়েছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই সরকারি সংস্থাগুলো নানা ধরনের নীতি প্রণয়ন করে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার প্রতিফলন না থাকায় নীতিগুলো বাস্তবায়ন কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়ে। সরকারি সংস্থাগুলোকে নীতি প্রণয়নের আগে বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
কমিটির ডিরেক্টর ইন চার্জ নাদিয়া বিনতে আমিন বলেন, উন্নত রাষ্ট্রগুলোর অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এ হার মাত্র ৬০ শতাংশ। এসএমই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি নীতি সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে।
আলোচনায় বক্তারা দেশের শিল্পায়নের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। তাঁরা বলেন, দেশের শিল্পায়ন মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামে আটকে আছে। শিল্প বিকেন্দ্রীকরণ করতে দেশব্যাপী অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ উদ্যোগ সফল করতে হলে টাউনশিপ গড়তে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে বৈষম্য হ্রাস, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পের যোগসূত্র স্থাপন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ওপর জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে লৈঙ্গিক সমতা বিধান ও নারী ক্ষমতায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।
Development by: webnewsdesign.com