ব্রেকিং

x

অবরোধে আটকে যাওয়া মোদির গাড়িবহর

পাঞ্জাবের পুলিশপ্রধান, সচিবের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

বৃহস্পতিবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২২ | ৯:২০ অপরাহ্ণ | 133 বার

পাঞ্জাবের পুলিশপ্রধান, সচিবের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
পাঞ্জাবে বিক্ষোভের মধ্যে ফ্লাইওভারে আটকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গাড়িবহর ছবি: এএনআই

রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গাড়িবহর আটকে থাকার ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিল পাঞ্জাবের রাজ্য সরকার। পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মেহতাব সিং গিল এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি অনুরাগ ভার্মাকে বলা হয়েছে, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সরকারকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

ওই ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্টে এক মামলার আবেদনও করা হয়েছে। আবেদনকারীর আরজি, কর্তব্যে গাফিলতির জন্য পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিচালক ও রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিবকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হোক। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রমনা জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার মামলার শুনানি হবে।



গত বুধবার পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় কৃষক বিক্ষোভের দরুন প্রধানমন্ত্রীর কনভয় আটকে পড়েছিল। মিনিট কুড়ি অপেক্ষার পর তিনি অনুষ্ঠান বাতিল করে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়েছেন বিজেপি ও কংগ্রেসের নেতারাও।

পাঞ্জাবে কংগ্রেস রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপি সরাসরি চক্রান্তের অভিযোগ এনেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত করেছিল কংগ্রেস। কংগ্রেস পাল্টা বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায় সম্পূর্ণভাবে স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপের (এসপিজি)। সফরের সবকিছু করা হয় তাদের তদারকিতেই। রাজ্য পুলিশ শুধু এসপিজির হুকুম তালিম করে। শেষ মুহূর্তে কেন প্রধানমন্ত্রীর সফরে বদল ঘটানো হলো, কার নির্দেশে ১১ কিলোমিটার রাস্তা গাড়িতে করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তদন্ত হলেই সব জানা যাবে।

সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো সফর চূড়ান্ত করা হয় এক মাস আগে এসপিজির তদারকিতে। সফরের আগে বারবার গোয়েন্দা প্রতিবেদন খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার ঝুঁকি কতটা, তা বিবেচিত হয়। সড়কপথে যেতে গেলে নিয়ে যাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট বুলেট ও মাইনপ্রুফ গাড়ি। বুধবার পাঞ্জাবে যে গাড়িতে প্রধানমন্ত্রী সফর করছিলেন, তা ওই ধরনের গাড়ি নয়। কেন তা করা হলো ও কার নির্দেশে, সেই প্রশ্ন উঠে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে জোর খাটিয়েছিলেন কি না, উঠছে সেই প্রশ্নও। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজ্যের বহু স্থানে কৃষকদের বিক্ষোভ কর্মসূচির কথা এসপিজিকে জানানো হয়েছিল। অথচ খারাপ আবহাওয়ার জন্য হেলিকপ্টার উড়তে না পারায় চটজলদি পরিকল্পনা বদলানো হয়। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি বলেছেন, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা ছিল নগণ্য। সবকিছুই ছিল এসপিজি ও কেন্দ্রের অধীনে। চান্নিকে সমর্থন করে রাজস্থানের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেছেন, দায় পুরোপুরি এসপিজি ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরোর। এসপিজির ইঙ্গিত ছাড়া প্রধানমন্ত্রী এক পা–ও এগোতে পারেন না।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরোধিতা করে বুধবার পাঞ্জাবের অনেক অঞ্চলে কৃষকেরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, কৃষি আইন বাতিল করা ছাড়া সরকার অন্য কোনো দাবি এখনো মানেনি। বুধবার যে জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে জনতার হাজিরাও ছিল নগণ্য। রাজস্থান ও হরিয়ানা থেকে বিজেপি নেতাদের লোকবোঝাই গাড়িও বহু স্থানে কৃষকেরা আটকে দেন। ভিড় না হওয়াও মোদির সফর বাতিলের অন্য কারণ বলে কংগ্রেস কটাক্ষ করেছে।

নামাজের সময়সূচি

[prayer_time]

Development by: webnewsdesign.com