ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাদ্যগুদাম ব্যবস্থাপনায় ‘খাদ্যগুদামের খামার ব্যবস্থাপনা’ নামের একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য অধিদপ্তর এ সফটওয়্যার চালু করে। এখন থেকে অনলাইনে কার্যালয়ে বা দূরে বসে খাদ্যগুদামের খামার সংখ্যা, খামারওয়ারি খাদ্যশস্যের পরিমাণ, খামারের অবস্থান, নির্মাণাধীন ও বিতরণাধীন খামার তদারকি করা যাবে।
আজ রোববার দুপুরে শহরের শিমরাইলকান্দিতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী। পাইলট প্রকল্পের আওতায় আপাতত আগামী জুন পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের কার্যক্রম সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
সুবীর নাথ চৌধুরী জানান, বর্তমানে খাদ্যগুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে কার্ড নিয়ে খাদ্যগুদামে প্রবেশ করে মজুত খাদ্যশস্য যাচাই-বাছাই করতে হয়। এরপর সেখান থেকে দৈনিক পণ্য ও প্রকারভিত্তিক মোট মজুত তথ্য উপজেলা ও জেলা অফিসে পাঠান। এ ছাড়া গুদামে খামারভিত্তিক মজুতের তথ্যের প্রয়োজন হলে গুদাম থেকে পৃথকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যশস্য মজুত ব্যবস্থাপনা তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে প্রতি মাসে আটবার এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে প্রতি দুই মাসে একবার খাদ্যগুদামগুলো পরিদর্শনের নির্দেশনা রয়েছে। তাঁরা গুদামগুলোতে গিয়ে খামারের মজুত খাদ্যশস্য যাচাই-বাছাই করেন। মূলত গুদামে প্রবেশ না করে কোন খামারে কী পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত আছে, সেটা জানার সুযোগ নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খামারের অবস্থান চিহ্নিত করাও সম্ভব না। এতে ওয়ারেন্টি ভঙ্গ করে খাদ্যশস্য বিতরণের সুযোগ থাকে।
সুবীর নাথ চৌধুরী আরও বলেন, ধান-চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে গুদামে বিদ্যমান খাদ্যশস্যের খামারকে নতুন সংগৃহীত খামার হিসেবে প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যায়। আবার প্রতিদিন কোন খামারে কী পরিমাণ খাদ্যশস্য প্রবেশ করছে এবং বের হচ্ছে বাস্তবে গুদামে না গিয়ে যাচাই করা যায় না। খামার কার্ডসহ অন্যান্য রেকর্ডপত্রাদি সংশ্লিষ্ট খাদ্য গোডাউনে (এলএসসি/সিএসডি) সংরক্ষিত হওয়ায় গুদামে অস্বাভাবিক কার্যক্রম হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা তা তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেন না। তবে সফটওয়্যার চালু করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দূরে থেকেও খামার সংখ্যা, খামারওয়ারি খাদ্যশস্যের পরিমাণ, খামারের অবস্থান, নির্মাণাধীন ও বিতরণাধীন খামার তদারকি করতে পারবেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরও জানান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এক বা একাধিক খাদ্যগুদাম (এলএসডি) এবং জেলা কর্মকর্তা সব খাদ্যগুদামের (এলএসডি) মজুত সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তা খাদ্য গোডাউনে (এলএসডি) পরিদর্শনে গিয়ে সফটওয়ারের সঙ্গে বাস্তব মজুত যাচাই করে দেখেন। পরিদর্শনে প্রাপ্ত ফলাফল তিনি সফটওয়্যারে যুক্ত করবেন। খাদ্যশস্য মৌসুমে সিস্টেমে কোনো গুদামে (এলএসডি) খাদ্যশস্য গ্রহণ ও বিতরণে অস্বাভাবিকতা পেলে জরুরি ভিত্তিতে এলএসডি পরিদর্শন করে যাচাই করা যাবে।
সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফটওয়্যার সিস্টেমে ঢুকে যেকোনো জেলার যেকোনো খাদ্য গোডাউনের (এলএসডি) গুদামগুলো খামারওয়ারি মজুদ ও খাদ্যশস্যের কার্যক্রম তদারকি করতে পারবেন। দূরে বা অফিসে বসেও খামারভিত্তিক মজুত ও ট্রানকেজশন পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাউছার সজীবসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
Development by: webnewsdesign.com