করোনা মহামারি শুরুর পর থেকেই সংক্রমণ রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার দিক দিয়ে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ইসরায়েল। টিকা পেয়েছেন দেশটির বেশির ভাগ মানুষ।
এমনকি সবার আগে বুস্টার ডোজ দেওয়াও শুরু করে তারা। ভাইরাসটি কীভাবে সামাল দিতে হবে, সে বিষয়ে ইসরায়েলের দিকে নজর রাখছিল বিশ্ব। তবে এত কিছুর পর করোনার নতুন ধরন অমিক্রন সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি সামাল দিতে পারেনি দেশটি। গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ইসরায়েলে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুনভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ। রেডিওতে লাপিদ বলেছেন, তিনি সুস্থ এবং বাসায় আইসোলেশনে আছেন।
এদিকে অমিক্রনের দাপটে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পরও নতুন করে লকডাউন বা বিধিনিষেধ জারি করেনি ইসরায়েল। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ ছাড়াই করোনার বিস্তার ঠেকাতে পারবে দেশটি।
তবে সংক্রমণ বেড়েছে। কোহেনের পর্যবেক্ষণ, আগের মতো এবার ইসরায়েল সরকার যথেষ্ট পরিমাণ করোনা পরীক্ষা করেনি। এ নিয়ে ইসরায়েলিদের মধ্যেও হতাশা দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক আকাশসীমা সাময়িক বন্ধের পর তা আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। অনুমতি দেওয়া হয়েছে পানশালা, রেস্তোরাঁ, জিম, উপাসনালয় ও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখার।
এদিকে স্থানীয়ভাবে শনাক্ত যখন রেকর্ড ছুঁয়েছে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সতর্ক করেছেন, সংক্রমণ আরও বাড়বে। তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ২০ থেকে ৪০ লাখের মতো মানুষ করোনা আক্রান্ত হতে পারে। পাশাপাশি বেনেট এ–ও বলেছেন, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়া আর তেমন কিছুই হবে না।
মঙ্গলবার বেনেট জানান, এই মুহূর্তে ইসরায়েল তিনটি নীতি মেনে চলছে। সেগুলো হলো অর্থনীতি চালু রাখা, বৃদ্ধসহ ঝুঁকির মুখে থাকা লোকজনকে করোনা থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং শিশুদের দেখভাল করা।
ইসরায়েলের শেবা মেডিকেল সেন্টারের গবেষণায় দেখা গেছে, টিকার বুস্টার ডোজ দিলে শরীরে অ্যান্টিবডির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। তবে এরপরও চতুর্থ ডোজ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অধ্যাপক সিরিল কোহেন। তাঁর মতে, নতুন আরেকটি ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সময় এখনো আসেনি।
Development by: webnewsdesign.com