ব্রেকিং

x

এক প্রবাসীর মায়ের আহাজারি:

‘আমার বাজানরে বাঁচান, ওরে আমার বুকে ফিরাইয়া দ্যান’

রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ | ১০:৪৭ অপরাহ্ণ | 207 বার

‘আমার বাজানরে বাঁচান, ওরে আমার বুকে ফিরাইয়া দ্যান’
ছবি: লিবিয়ায় বন্দী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন স্বজনেরা। রোববার দুপুরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে

‘আমার বাজানে আট মাস ধইরা লিবিয়ার জেলখানায় বন্দী। দালালের কাছে এই পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা দিছি। কোনো কাম হয় নাই। আমার বাজানরে আম্মেরা (আপনারা) বাঁচান। ওর শরীরে ঘা-পাঁচড়া হয়ে গেছে। ওরে আমার বুকে ফিরাইয়া দ্যান।’

আদরের সন্তান মেহেদী হাসানকে ফিরে পেতে আজ রোববার দুপুরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এমন আকুতি জানিয়েছেন জেসমিন আক্তার (৬০)। তাঁর বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার পাতিলাদি এলাকায়।



শুধু জেসমিন আক্তারই নন, তাঁর ছেলের মতো লিবিয়ায় বন্দী ১২০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর পরিবারের সদস্য একই আকুতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। ‘আটককৃতদের হতভাগ্য অভিভাবক ও স্বজন’ লেখা ব্যানারে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী তাঁরা মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে স্বজনেরা বলেন, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলার ১২০ জন তরুণ লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় এক বছর ধরে লিবিয়ার একটি কারাগারে বন্দী। এর মধ্যে অনেকেই আবার দালালের হাতে জিম্মি। তাঁদের মুক্তিপণের জন্য লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি দালালেরা প্রায়ই নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা দাবি করছেন। কেউ কেউ মুক্তিপণের টাকা পাঠালেও সন্তানদের মুক্তির কোনো সুরাহা করতে পারেননি।

লিবিয়ায় বন্দী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মুক্তি চেয়ে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকসহ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লিবিয়া দূতাবাসের কাছে অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি দেন তাঁরা।

বেলায়েত হোসেনের মা রিমা বেগম বলেন, ‘আমার পোলারে ফিরে পাইতে দালালরে সব মিলাইয়া ১৩ লাখ টাকা দিছি। আইজ ৮ মাস ধইরা আমার পোলা লিবিয়ার জেলে আটক আছে। কোনহানে আছে তা–ও ঠিকমতো জানি না। সারা দিনে পাঁচ টাকার একটা রুটি আর আধা কেজি পানি খাইতে দেয়। এভাবে থাকলে আমার পোলাডা লিবিয়ার জেলে মইরা যাব।’

এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, লিবিয়ায় বন্দী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লিবিয়া দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছেন, খুব শিগগির তাঁদের অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে সরকারি ব্যবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

নামাজের সময়সূচি

[prayer_time]

Development by: webnewsdesign.com