বিয়ের চার বছর পর কোলে এসেছিল প্রথম বাচ্চা। পূর্ণতা লাভ করেছিল নাজমা খাতুনের (৩০) সংসার। সন্তানকে ঘিরে বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়িতে আনন্দের বন্যা বইছিল। পরিবার দুটিতে এই খুশি এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেলেন নাজমা।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে মারা যান নাজমা। তিনি গাংনীর ছাতিয়ান গ্রামের রবদেল মণ্ডলের মেয়ে। একই উপজেলার মটমুড়া গ্রামে তাঁর স্বামী সাবদাল হকের বাড়ি। তাঁর মৃত্যুতে দুই সপ্তাহের মেয়েশিশুটিকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজমার চাচা মহরম শেখ বলেন, দুই সপ্তাহ হলো নাজমা মেয়েসন্তানের মা হয়েছেন। কোলের শিশু রেখে মায়ের মৃত্যুতে এলাকার সবাই কাঁদছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, প্রসূতি হওয়ার পর থেকে নিজের ও বাচ্চার ভালো দেখভালের জন্য বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন নাজমা। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে ঘরে আলো জ্বালাতে ভেজা হাতে বিদ্যুতের সুইচে চাপ দেন তিনি। এ সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়েন নাজমা। তাঁর চিৎকার শুনে বাড়ির অন্য সদস্যরা ছুটে আসেন। নাজমাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাজমার বাবা রবদেল মণ্ডল বলেন, মেয়ের বিয়ে হয়েছে চার বছর। এটিই প্রথম বাচ্চা। বাচ্চা পেটে আশা পর থেকে মেয়ের সেবা করার লক্ষ্যে তাঁকে বাড়িতে আনা হয়। দুই সপ্তাহ আগে একটি মেয়েসন্তানের জন্ম হয়। নাজমার মা ও বোনেরা তাঁদের দেখাশোনা করেন। রাতের বেলায় টিউবওয়েল থেকে হাত–মুখ পরিষ্কার করে ঘরে উঠে বিদ্যুতের সুইচে চাপ দিতেই বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়েন নাজমা। তাঁকে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি।
মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ নাজমার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির জন্য কষ্ট হচ্ছে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান বলেন, একটি বাচ্চা হওয়ার পর মেয়েটি স্বাভাবিকভাবেই অসুস্থ ছিল। শরীরও দুর্বল ছিল। বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর অনেক সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
Development by: webnewsdesign.com