করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরিয়ে জরিমানা গুনতে হচ্ছে অনেককে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ করার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এসব আদালতের সামনে পড়লে অজুহাত দেখালেও পার পাওয়া যাচ্ছে না। টিকা দেওয়ার সনদ দেখাতে না পারায় বাসচালককেও জরিমানা দিতে হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর মালিবাগের আবুল হোসেন হোটেলসংলগ্ন এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাশ। তিনি জানিয়েছেন, সংক্রামক রোগ বিস্তারে ভূমিকা রাখার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় আজ ১৪টি মামলা করা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ টাকা। আইন অনুসারে ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।
আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত রাজধানীর খিলক্ষেত, মিরপুর, কলেজগেট, মোহাম্মদপুর ও ফার্মগেট এলাকা ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে লোকজনের এমন উদাসীনতা দেখা গেছে। যাঁরা মাস্ক পরছেন না, তাঁরা নানা অজুহাত দেখিয়েছেন। এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল।

করোনার টিকা দেওয়ার সনদ সঙ্গে না রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি লংঘনে জরিমানা গুনতে হয়েছে বাসচালকদেরও ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ ১১ দফা বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার। এসব বিধিনিষেধের প্রথমটিই হচ্ছে, ‘দোকান, শপিং মল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাশ বলেন, গণপরিবহন ও দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না, পথচারীরা মাস্ক পরেছেন কি না, সেটা দেখা হয়েছে। একটি বাসের চালকের টিকা কার্ড না থাকায় এবং মুখে মাস্ক না থাকায় এক হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তবে তাঁর মতে, করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় মাস্ক পরার ক্ষেত্রে লোকজন যতটা অসচেতন ছিলেন, এবার ততটা নয়। মাস্কের ব্যবহার বেড়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার কারণেও অনেকে মাস্ক পরছেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিচার শাখার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আজ রাজধানীসহ ঢাকা জেলায় চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চারটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা। গতকাল মঙ্গলবার আট জায়গায় আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬১টি মামলা করেন। জরিমানা আদায় হয় ১৬ হাজার ৫৫০ টাকা।
মাস্কের বিষয়ে আরও কড়াকড়ির পরামর্শ
জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, এখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ২৫ শতাংশের বেশি। এটা ভয়ের ব্যাপার। অমিক্রনেরও সংক্রমণ বাড়ছে। সরকার নিয়োজিত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দলের এই সদস্য বলেন, ‘এখন যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা, তা স্বস্তিদায়ক নয়। সরকারের উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা। অন্তত আগামী এক মাস মাস্ক পরার ব্যাপারে খুব কড়াকড়ি আরোপ করা দরকার। সংক্রমণের হারের কথা ভেবে লোকজনকেও দল বেঁধে ঘুরতে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া, সামাজিক অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।’
Development by: webnewsdesign.com