শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ বুধবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে ওই ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুলুখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে ককটেলের বিস্ফোরণ ও গুলি ছুড়ে কেন্দ্র দখল করা হয়। সেই সঙ্গে যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক কাজী মনিরুজ্জামান, কালের কণ্ঠ–এর প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাকারিয়া মাসুদের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
চশমা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সমর্থকেরা এ হামলা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দোলোয়ার হোসেন ব্যাপারী সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হকের চাচাতো ভাই।
ভোজেশ্বর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছে। এই ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আলাউদ্দিন (লাঙ্গল প্রতীক), স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদুল ইসলাম সিকদার (আনারস প্রতীক), এমদাদ সিকদার (ঘোড়া প্রতীক), রুনা আক্তার (টেলিফোন প্রতীক), দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী (চশমা প্রতীক) এবং এনামুল হক ব্যাপারী (মোটরসাইকেল প্রতীক)।
চশমা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সমর্থকেরা এ হামলা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দোলোয়ার সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হকের চাচাতো ভাই।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানান, বেলা সোয়া দুইটার দিকে দুলুখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা করেন দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সমর্থকেরা। তাঁরা ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি করে ভোটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। এরপর ভোটকেন্দ্র দখল করে তিনটি ভোটবাক্স, তিন হাজার ব্যালট ও নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ছিনতাই করেন। এরপর বাইরে থেকে দরজা আটকে ভোটকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা। এ সময় নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, আনসার সদস্য ও ভোটাররা ওই কক্ষে আটকা পড়েন। তাঁরা দরজা ভেঙে সেখান থেকে প্রাণে বাঁচেন। এ সময় ১০ ব্যক্তি আহত হন।
সেখানে উপস্থিত ডেইলি স্টার–এর প্রতিবেদক এমরুল হাসান, যমুনা টিভির সাংবাদিক মনিরুজ্জামান, কালের কণ্ঠ–এর সাংবাদিক শরীফুল আলম, প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ ও মানবাধিকার খবর–এর সাংবাদিক হেমন্ত দাস প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে আটকা পড়েন। তাঁদের কক্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি করা হয়।
কেন্দ্রে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়ে কেন্দ্র রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের গুলি শেষ হয়ে গেলে তাঁরাও পিছু হটে আত্মরক্ষা করেন। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন দাস গুপ্তর নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা অবরুদ্ধদের উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্কুল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলাকারীরা অন্তত আট নারী আনসার সদস্য ও নারী ভোটারদের গয়না ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নারী আনসার সদস্য তরিকত নেছা বলেন, ‘বোমা ও গুলির কারণে কেন্দ্রের ভেতর আশ্রয় নিই। পরে ভোটবাক্স, ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার পর স্কুল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের মারধর করে গায়ের গয়না ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।’
ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘দুপুরের দিকে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা খাবার খাচ্ছিলেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে কেন্দ্রে ককটেল হামলা ও গুলি করে কেন্দ্র দখল করে সন্ত্রাসীরা। তারা ভোটের বাক্স ও ব্যবহৃত-অব্যবহৃত ব্যালট ছিনতাই করে নেওয়ার পর কেন্দ্রের ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এরপর ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। বিজিবির সদস্যরা আমাদের উদ্ধার করে উপজেলা সদরে পৌঁছে দেয়।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চেষ্টা করা হয়। মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে ফোন বন্ধ করে দেন।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনি শংকর কর বলেন, কেন্দ্রে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হবে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
Development by: webnewsdesign.com