বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া গ্রামে মামলার তদন্ত করতে গিয়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় হামলার শিকার হয়েছেন গৌরনদী মডেল থানার দুই পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া এ সময় স্থানীয় দুজন আহত হন।
হামলায় আহত পুলিশের দুজন হলেন গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির উদ্দিন (৩৫) ও কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম (২৭)। আর আহত স্থানীয় দুজন হলেন বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্যাদা (৪৫) ও তাঁর ভাই নাজমুল ইসলাম (২৫)।
এ ঘটনায় বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মো. নজরুল ইসলাম প্যাদা বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২ জনকে আসামি করে আজ বৃহস্পতিবার গৌরনদী মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ আজ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া গ্রামের আবদুল মালেক সরদারের (৫৫) বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর পুত্রবধূ নূপুর বেগম (২৫)। মামলাটি তদন্তর জন্য গতকাল সন্ধ্যায় গৌরনদী মডেল থানার এসআই মো. নাসির উদ্দিন ফোর্স নিয়ে ওই গ্রামে যান। জিজ্ঞাসাবাদকালে অভিযুক্ত মালেক সরদার, আবদুর রশিদ, লোকমান সরদারসহ আসামিদের সঙ্গে এসআই নাসির উদ্দিনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামি মালেক সরদারের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন এসআই নাসিরসহ পুলিশের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। পুলিশকে রক্ষায় নজরুল, তাঁর ভাই নাজমুলসহ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে আসামিরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।
নাজমুলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁকে প্রথমে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত এসআই নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, ‘মালেক সরদার তাঁর সন্ত্রাসী সমর্থকদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের রক্ষায় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে নাজমুলকে কুপিয়ে জখম করেছে তারা।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মালেক সরদার বলেন, ‘হামলার ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, হামলার ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ আজ এজাহারভুক্ত আসামি মালেক সরদার, আবদুর রশিদ, লোকমান সরদার ও তিথি আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে।
Development by: webnewsdesign.com