যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে নিত্য নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে পাপিয়াকে নিয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এক এমপিকে বারিধারার এক বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তারা চাঁদাবাজি ও হুমকি-ধমকি দিতেই সেদিন ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবার জানা গেল পাপিয়ার বিয়ে করার নতুন তথ্য। কীভাবে তিনি তার স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন ওরফে মতি সুমনকে বিয়ে করেছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক সময় সুমন ছিলেন পাপিয়ার বন্ধু। বন্ধু থেকে একপর্যায়ে সুমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান পাপিয়া। কিন্তু পাপিয়া একটা সময় বিয়ে করতে চাইলে কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না সুমন।
একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা সুমনকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন যুবলীগের আলোচিত এই নেত্রী। পরে বাধ্য হয়ে পাপিয়াকে বিয়ে করেন সুমন।
নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সুমন ছিলেন নরসিংদীর আলোচিত চরিত্র। সুমনের হাত ধরে পাপিয়ার উত্থান হয়। কিন্তু একপর্যায়ে প্রভাব-প্রতিপত্তি আর ক্ষমতায় স্বামী সুমনকেও ছাড়িয়ে যান পাপিয়া। নিজেই গড়ে তুলেন কেএমসি (খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি) নামে বিশাল বাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, পাপিয়া নরসিংদী সরকারি কলেজে লেখাপড়া করার সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুমনের। পরিচয়ের পর তারা ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন। বন্ধু থেকে একপর্যায়ে মতি সুমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান পাপিয়া।
জানা গেছে, প্রেম চলাকালে একদিন পাপিয়া কলেজের ভেতরে সুমনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হলে পাপিয়া তাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ নিয়ে পাপিয়া ও সুমনের গ্রুপের মধ্যে কলেজে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও পাপিয়াকে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে চাননি সুমন। পরে বাধ্য হয়ে পাপিয়াকে বিয়ে করেন সুমন।
বিয়ের পর একপর্যায়ে পাপিয়া তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান বলে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জানান। স্বামী হলেও তার চাওয়া-পাওয়ার মূল্য তিনি কমই দিতেন। পাপিয়ার ইচ্ছা মোতাবেক সব ধরনের কার্যক্রম চলত। পাপিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়াকে আটককালে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ইয়াবা, মদ ও জাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাকে নিয়ে নরসিংদী ও রাজধানীর ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানে ফার্মগেটের বাসা থেকে নগদ ৫৮ লাখ টাকা, অবৈধ পিস্তল ও গুলি, বিদেশি মুদ্রা ও মদ উদ্ধার করা হয়। এরপর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পরে পাপিয়াসহ গ্রেপ্তার চারজনকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। জাল মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনায় ওই থানায় একটি মামলা করা হয়, যেখানে চারজনকেই আসামি করা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র ও মদ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় আরও দুটি মামলা করা হয় পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে।
Development by: webnewsdesign.com