ব্রেকিং

x


শিকলই আল-আমিনের সারাদিনের সঙ্গী

শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২:০৩ অপরাহ্ণ | 36 বার

শিকলই আল-আমিনের সারাদিনের সঙ্গী
ফাইল ছবি

বাড়ির উঠানের গাছের সঙ্গে পায়ে লাগানো শিকলই আল-আমিনের সারাদিনের সঙ্গী।

রোদ-বৃষ্টি-ঝড় যাই হোক, হোটেলের কাজ থেকে মা-বাবা না ফেরা পর্যন্ত তাকে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সন্ধ্যা বা রাতে মা-বাবা বাড়ি ফিরে এলে শিকল খুলে তাকে ঘরে নিয়ে যান।



শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেল শ্রমিক শহিদুল ইসলামের সন্তান আল-আমিন (১৭)। সে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। প্রায় ১ যুগ লোহার শিকলে বন্দি জীবনযাপন করছে সে।

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যে সময়ে তার বই-খাতা নিয়ে স্কুলে এবং মাঠে সমবয়সীদের নিয়ে খেলতে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে তাকে শিকলবন্দী জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আমি হতদরিদ্র মানুষ, দিন আনি দিন খাই। তাই ছেলের উন্নত চিকিৎসা তো দূরে থাক, ভালোমতো দু-বেলা খেতে দিতে পারি না। পিতা হয়ে এই যন্ত্রণা সহ্য করা কঠিন!’

আল-আমিনের মা রেখা খাতুন বলেন, ‘জন্মের দুই বছর পর আমরা বুঝতে পারি ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে চোখে চোখে রাখা সম্ভব হলেও এরপর থেকে আর সম্ভব হয়নি। সবার অজান্তে বাড়ি থেকে সে বাইরে চলে যায়। কয়েকবার হারিয়েও গেছে। বাড়ির পাশে করতোয়া নদীতেও সে না বুঝে ঝাঁপ দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে নিজের ছেলেকে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে কাজে যাই। সারাদিন সে অভূক্ত অবস্থায় শিকলবন্দী থাকে। এ অবস্থায় রোদ-বৃষ্টি তার শরীরের ওপর দিয়েই বয়ে যায়।’

এই দম্পতি গৃহহীন। যমুনা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে অন্যের জমিতে মাসে ৫০০ টাকা ভাড়ায় ঝুঁপড়ি ঘর তুলে বাস করছেন। তবে এখনও তারা প্রতিবন্ধী কার্ড পাননি।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. লিয়াকত আলী জানান, প্রতিবন্ধী কার্ড পেতে কিছু সরকারি নিয়ম রয়েছে। তাদের বিষয়টি বলা হলেও তারা এখনও নিয়ম মেনে দরখাস্ত করেননি। করলেই কার্ডের ব্যবস্থা করা দেব।

Development by: webnewsdesign.com