ব্রেকিং

x


করোনাভাইরাসে বৈশাখের বাজারে ধস

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ৭:০৬ অপরাহ্ণ | 120 বার

করোনাভাইরাসে বৈশাখের বাজারে ধস
ছবি-স্বাধীন টিভি

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক নির্দেশনায় বাংলা নববর্ষের সকল অনুষ্ঠানে জনসমাগম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ঘরে বসে ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে’ পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য বলা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। এমন অবস্থায় পহেলা বৈশাখকে ঘিরে প্রতিবছর যে রকম জমজমাট প্রস্তুতি থাকে, এবারে সে চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। যার একটি প্রভাব পড়েছে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাজারের ওপর।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ছেলেদের শার্ট, টিশার্ট, ফতুয়া, মেয়েদের কামিজ, থ্রিপিস, ওয়ান পিচ, টপস, বৈশাখের শাড়ি, শিশুদের সব ধরনের পোশাক প্রস্তুত করে দেশি ফ্যাশন হাউজগুলো। রঙ ও নকশার দিক থেকে তা বছরের অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন হয়ে থাকে। ফলে কেবল বৈশাখী উৎসবকে কেন্দ্র করেই বৈশাখের পোশাকগুলো বিক্রি হয়।



এ প্রসঙ্গে দেশীয় পোশাকের ব্র্যান্ড বাংলা মেলার কর্ণধার একেএম গোলাম মাওলা বলেন, সারা বছর যা বিক্রি হয় তার অর্ধেকটা হয় বৈশাখ আর ঈদকে কেন্দ্র করে। এবার বৈশাখে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা বিক্রির পরিকল্পনা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদেও দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা বেচাকেনা করার মতো পণ্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। সেইসব প্রস্তুত পণ্য নিয়ে এখন আমরা ঘরে বসে আছি। ঈদ ও বৈশাখকে সামনে রেখে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ভালো প্রস্তুতি নেওয়া ছিল।

গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমরা ডিজাইন করে দিই এবং কাপড় কিনে দেই। সেটা দিয়ে ছোট ছোট প্রডিউসাররা পণ্য প্রস্তুত করে দিয়ে থাকে। সব মিলিয়ে উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে হাজার হাজার লোক জড়িত এই শিল্পে।’

নারায়ণগঞ্জের তাঁতিপল্লিতে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের আগে কারিগরদের দম ফেলার সময় হতো না। এবার তাদের হাতে কোন কাজ নেই। একের পর এক অর্ডার বাতিল হওয়ায় মহাজনরাও বিপাকে পড়েছেন। তারা না পারছেন ঋণ পরিশোধ করতে, না পারছেন ক্ষুদ্র তাঁতিদের মজুরি দিতে। এদিকে পাইকাররা পুরানো অর্ডারের পণ্য নিতে না চাওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন এই তাঁতিরা।

তাঁতি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘আগে এই সময় পঁচিশটা কাপড়ের অর্ডার থাকলেও লাখ টাকার উপ্রে ইনকাম ছিল। এখন যা চলতাসে এই রকম দুইমাস থাকলে আমার লাখ টাকার উপ্রে ক্ষতি হয়া যাবে।’

মনির হোসেনের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশজ পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়া সামনের মাসেই রোজার ঈদ হওয়ায় দুটি উৎসব মিলিয়ে কয়েক মাস আগে থেকেই বড় অংকের বিনিয়োগ করে রেখেছিলেন তারা কিন্তু এখন তাদের পণ্য বিক্রি করার কোন অবস্থা নেই।

Development by: webnewsdesign.com