ব্রেকিং

x

বাংলার পাদদেশে পালিত হলো শহীদ দিবস ‘২১ শে ফেব্রুয়ারী

শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৩:৪৩ অপরাহ্ণ | 633 বার

বাংলার পাদদেশে পালিত হলো শহীদ দিবস ‘২১ শে ফেব্রুয়ারী

মহান একুশে ফেব্রুয়ারী জাতীর জন্য একদিকে আনন্দের এবং আর একদিকে শোকাবহ দিন।কালের বিবর্তনে হয়তো সবকিছুই ভুলে যাওয়া সম্ভব কিন্তু ভাষা আন্দোলনের জন্য একুশে’র এই অর্জন কখনই ভুলার নয়। একুশ আসে, একুশ যায়, একুশ আমাদের অহঙ্কার,একুশ আমাদের গর্ব, একুশ আমাদের বাঁচতে শেখায়, এরকম অনেক কিছুই ভাবতে পারি, ভাববো। আজ সময় এসেছে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এর তাৎপর্য তুলে ধরার।

04

১৯৫২ সালের ‘২১ শে ফেব্রুয়ারীর এই দিনটিতে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে বাংলা ভাষা কে ঘিরে সৃষ্ট আন্দোলনের মাধ্যমে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্থান(বর্তমানে বাংলাদেশ) সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে ছাত্র-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-নেত্রীরা। এর আগে ১৯৪৭ সালে দ্বী-জাতিক তত্বের ভিত্ত্বিতে বৃটিশ-ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্থানের উদ্ভব হয়। ১৯৪৮ সালে পাকিস্থান সরকার ঘোষনা করে উর্দুই হবে পাকিস্থানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা। কিন্তু সে সময় পূর্ব-পাকিস্থান এর ছাত্র-রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তি বর্গ তা মানতে রাজী নন। ফলে শুরু হয় সরকারের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গিকার। আন্দোলন চলতে চলতে গড়িয়ে পড়ে ১৯৫২ সালের দিকে। ছাত্র-জনতা তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে,শুরু হয় রাজপথে নামার পরিকল্পনা।পাকিস্থান সরকার দ্বিগ্বীদিক নাপেয়ে জারী করে ১৪৪ ধারা। তবে ছাত্র-জনতার ঐ আন্দোলন ১৪৪ ধারা ভাঙতে সক্ষম হয়, কিন্তু ততক্ষনে রাজপথে পুলিশের গুলিতে অনেক ছাত্রকেই প্রাণ দিতে হয়।এর মধ্যে রফিক,শফিক,ছালাম,বরকত সহ অনেকেই আছেন। দীর্ঘ চার বছর পর ১৯৫৬ সালে পাকিস্থান সরকার ছাত্র-জনতার কাছে নত স্বীকার করতে বাধ্য হয়
বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করতে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। প্রতি বছর আমরা বাংলা ভাষাভাষি মানুষ আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাভরে দিবসটি পালন করে থাকি। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সরকারও এগিয়ে আসে।বেনাপোল- পেট্রাপোলের মাঝামাঝি নো- ম্যানস ল্যান্ডটিতে প্রতি বছর দুই বাংলার বাংলা ভাষাভাষি মানুষ একত্রিত হয়ে আনন্দের বার্তা ভাগাভাগি করে থাকে। আজ মহান এই দিনটি পালনের উদ্দেশ্যে দুই দেশের সরকার বাহাদুরের কর্মকর্তাগন উপস্থিত হয়েছেন স্থানটিতে। চলুন, এক নজরে আমন্ত্রিত অতিথিদের পরিচয় জেনে নিই। বাংলাদেশের নামের তালিকায় আছেন- পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য,সভাপতি মন্ডলির সদস্য,বাংলাদেশ আ’লীগ। শহিদুল ইসলাম মিলন,সভাপতি, যশোর জেলা, আ’লীগ। শাহীন চাকলাদার,সাধারন সম্পাদক,যশোর জেলা,আ’লীগ। মো: আব্দুল মুজিদ,যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক,যশোর জেলা আ’লীগ। মো:বেলাল হোসাইন চৌধুরী,কমিশনার,কাষ্টমস হাউস বেনাপোল। লে:কর্নেল মোহাম্মাদ আরিফুল হক। কোম্পানি কমান্ডার,৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন,যশোর। আনিসুর রহমান,বিপিএম,পিপিএম,পুলিশ সুপার যশোর।
ভারতের নামের তালিকায় আছেন-শ্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক,খাদ্যও সরবরাহ মন্ত্রী,পশ্চিম বঙ্গ সরকার,ভারত। শ্রীমত্যা মমতা ঠাকুর,সাংসদ,বনগাঁ লোকসভা ভারত। রেহেনা খাতুন,সভাধিপতি,উ:২৪ পরগুনা জেলা পরিষদ,পশ্চিমবঙ্গ। শ্রী বিশ্বজিৎ দাস,বিধায়ক,বনগাঁ(উ:) বিধানসভা,পশ্চিমবঙ্গ। শ্রী সুরজিৎ বিশ্বাস,বিধায়ক,বনগাঁ(দ:)বিধানসভা,পশ্চিমবঙ্গ। শ্রী গোপাল শেঠ,প্রাক্তন বিধায়ক:জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের সদস্য,পশ্চিমবঙ্গ। শ্রী কৃঞ্চ গোপাল ব্যানার্জী,সভাধীপতি,উ: ২৪ পরগুনা জেলা পরিষদ,পশ্চিমবঙ্গ। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়,বিশিষ্ঠ কবি ও লেখক,পশ্চিম বাংলা,ভারত। সঞ্জীব চট্টপাধ্যায়,বিশিষ্ঠ কবি ও লেখক, পশ্চিম বাংলা, ভারত। অনুপমরায়,প্রখ্যাত সংঙ্গীত শিল্পী,পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। জয়ন্ত চট্টপাধ্যায়,আবৃতিকারক ও অভিনেতা,জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত। কিরন চন্দ্র রায়,প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী,জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত,ঢাকা। ফাতেমাতুজ্জোহরা,প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী,জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত,ঢাকা।
বুধবার সকাল ৮.৩০ মিনিটের দিকে অতিথিবৃন্দ শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শর্দ্ধার্ঘ নিবেদন করেন। পরে বিশাল ” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ২১ শে মঞ্চ ” এ সকলেই সমবেত হন এবং আসন গ্রহন করেন। এরপর চলে দিনব্যাপী নেওয়া অনুষ্ঠানের কর্মসুচি। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শুরু করা হয়, দুই দেশের প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও সঙ্গীত শিল্পীরা তাদের স্ব-স্ব পরিবেশনায় কবিতা,গান উপস্থাপন করেন। চলে রক্তদানের কর্মসুচি। জন সমুদ্রের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা ভাষার দিবসটি পালনে দুই দেশের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও সুদৃড় হবে,বাংলা ভাষার প্রচলন বৃদ্ধি পাবে বলে তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক দাতারা হলেন বাংলাদেশের পক্ষে, মো: আশরাফুল আলম লিটন,মেয়র,বেনাপোল পৌরসভা এবং ভারতের পক্ষে ছিলেন, শ্রী শংকর আঁঢ্য,চেয়ারম্যান, বনগাঁ পৌরসভা।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Development by: webnewsdesign.com