ব্রেকিং

x


এডিবি’র অর্থায়নে চার লেন হচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯ | ২:১৪ অপরাহ্ণ | 127 বার

এডিবি’র অর্থায়নে চার লেন হচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ শুরু হচ্ছে আগামী জানুয়ারিতে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে চুক্তি করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। নিশ্চিত হয়েছে চার লেনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া। শুরু হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ ও সমীক্ষার কাজ। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২২৬ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত করতে ইআরডির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এডিবির। চুক্তি অনুযায়ী নতুন বছরের শুরুতে উন্নয়নের দৃশ্যমান কাজ শুরু করবে এডিবি। ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ভূমি অধিগ্রহণ ও সড়কের পাশের ইউটিলিটি স্থানান্তরের জন্য সরকার ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৮৫১ কোটি টাকা।



মূলত: এডিবি ২০১৩ সালের দিকে মহাসড়কের উন্নয়নে প্রথম সমীক্ষা শুরু করে। কিন্তু মাঝখানে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হলে তারা আর বেশিদূর এগোয়নি। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘স্ট্রেনদেনিং ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড প্রডাকশন ক্যাপাসিটি কো-অপারেশন’ নামক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) এই প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য চীন সরকার এম/এস চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে মনোনয়ন দেয়।

তখন জি-টু-জি ভিত্তিতে এ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য ২০১৭ সালের অক্টোবরে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিল সরকার। কথা ছিল ২০১৮ সালের শুরুতেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। কিন্তু ২০১৮ সালের ২৯ মে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ একটি চিঠির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে জানায়, আলোচ্য প্রকল্পটি জি-টু-জি ভিত্তিতে চীন সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জিওবি (সরকারি) অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীর সম্মতিতে প্রকল্পটি চীনা অর্থায়নের পরিবর্তে জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে গত বছরের ২৯ জুলাই ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে ২০১৭ সালের ২৩ মে পাঠানো চীনের এমওইউ প্রত্যাহার এবং চীনা অর্থায়ন প্রক্রিয়া বাতিল করার অনুরোধ জানায় ইআরডি।

এরপর পরিকল্পনা কমিশন. সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুনভাবে বৈদেশিক সহায়তা অনুসন্ধানের জন্য ইআরডিকে অনুরোধ করে। তাদের বহুমুখি প্রয়াসের এক পর্যায়ে কাজটি করার জন্য এডিবি আবারো এগিয়ে আসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বিষয়টি আলোচনা করেন।এরপর প্রধানমন্ত্রী এডিবির মাধ্যমে মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উপর আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং দ্রুত প্রাথমিক কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ঢাকা-সিলেট অর্থ ছাড়ে সম্মতি দেয়ায় শিগগিরই ঢাকা-সিলেট সড়কের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, এটা সিলেটবাসীর জন্য একটা সুখবর। সিলেট বিভাগের ইতিহাসের অন্যতম সফল মেগা রোড নেটওয়ার্ক প্রকল্প এটি। আমি বলতে চাই আমার একটি স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। এই প্রজেক্টটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পায়োরিটি প্রজেক্ট।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানায়, সিলেট চা উৎপাদনে ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। এখানে অনেক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। রয়েছে সিমেন্ট ও সার কারখানা এবং তেল ও গ্যাসের খনি। সিলেটের পাথর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। তাই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দ্বার বেগবান করতেই ঢাকা-সিলেট সড়ক উন্নয়ন হচ্ছে এডিবির অর্থায়নে। চার লেনের পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন থাকবে। নতুন পরিকল্পনায় চারটি ফ্লাইওভার, ১০টি আন্ডারপাস, ৪২টি ফুটওভার ব্রিজ, তিনটি ট্রাক স্ট্যান্ড এবং দু’টি রেস্ট হাউজ থাকবে সড়কটিতে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, যে কোনো কাজ দেরি হলেই ব্যয় বাড়ে। এমনিতেই বাংলাদেশে ব্যয় বাড়ার প্রবণতা রয়েছে। তারপরও যদি কাজ শুরু করতে দেরি হয়, তাহলে ব্যয় অবধারিত বাড়বে। তাই যেভাবেই হোক দ্রুত কাজ শুরু করা উচিত।

Development by: webnewsdesign.com