ব্রেকিং

x


ইউরোপের জলে-স্থলে বাংলাদেশি অভিবাসীদের অনিশ্চিত যাত্রা

শনিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২২ | ১০:১৭ অপরাহ্ণ | 40 বার

ইউরোপের জলে-স্থলে বাংলাদেশি অভিবাসীদের অনিশ্চিত যাত্রা
ইউরোপ যাত্রায় ভূমধ্যসাগরের রুটটি বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেফাইল ছবি: রয়টার্স

তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দির ছোট্ট নিথর দেহের ছবিটি কারও ভোলার কথা নয়। ২০১৫ সালে তার ছবিটি পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের ঝাঁকুনি খায় অভিবাসী-সংকট নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ইউরোপ। ঘুম ভাঙে বিশ্ববাসীরও। বদলে যায় অভিবাসীদের বিষয়ে অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি।

বিপজ্জনকভাবে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান। এই দুর্ভাগাদের দলে থাকা বেশির ভাগই এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার। ভাগ্যবদলের স্বপ্ন নিয়ে দুচোখ যখন ইউরোপের দিকে হাতছানি দিয়ে ডাকে, ঠিক তখনই সলিলসমাধি ঘটে এসব মানুষের অনেকের। এ দলে বাংলাদেশিদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। করোনা মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ বিধিনিষেধ থাকায় গত বছরে প্রাণঘাতী এ যাত্রায় তুলনামূলক কম লোক শামিল হলেও ২০২১ সালে আবার বাড়তে শুরু করে অবৈধপথে ইউরোপ যাত্রা।



ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত ‘ফ্রনটেক্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নভেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৮০ জন অভিবাসী অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। করোনা মহামারি শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। আর ২০১৯ সালের তুলনায় বেশি ৪৫ শতাংশ।

crorasia

ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী একটি সড়ক দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করছেন অভিবাসীরা। এই দলে বাংলাদেশিরাও থাকেনফাইল ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশি তরুণেরা যাচ্ছেন বেশি
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়া লোকজনের মধ্যে শীর্ষে বাংলাদেশের নাগরিকেরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়া থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ২১ জুন নৌকাডুবিতে ১৭ বাংলাদেশি প্রাণ হারান। ওই যাত্রায় তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ৩৮০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। এর আগে গত ২৪ জুন ২৬৭ জনকে উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড; যাঁদের মধ্যে ২৬৪ জনই বাংলাদেশি।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত নানা দেশের মোট ২২ লাখ ২৪ হাজার ২৪৫ জন অভিবাসী এভাবে সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে এসেছেন। নৌকাডুবিসহ নানা কারণে পথে প্রাণ হারিয়েছেন ২১ হাজার ৭০৭ জন।

ব্র্যাকের গবেষণায় দেখা গেছে, ২৬ থেকে ৪০ বছর বয়সী লোকজন সবচেয়ে বেশি ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করছেন। তাঁদের মধ্যে ৩১ থেকে ৩৫ বছরের লোকই বেশি। গত কয়েক বছরে ইউরোপ ও লিবিয়া থেকে ফেরত আসা ২ হাজার ২৮৪ বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, ঢাকা, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা জেলা থেকে বেশি লোক এভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। একেকজন ইউরোপে যেতে ৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন।

bangladeshi

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসা শহরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাংলাদেশিরা ফাইল ছবি: রয়টার্স

মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটের পর বাংলাদেশিরা বেশি ব্যবহার করেন বলকান রুট। গত কয়েক বছরে এ রুট দিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে গেছেন। এভাবে ঢুকতে গিয়ে বসনিয়ার জঙ্গলে এখনো শতাধিক বাংলাদেশি আটকে আছেন।

মূলত অভিবাসী ও শরণার্থীরা পশ্চিম ইউরোপ যাত্রায় বলকান অঞ্চলের জঙ্গলকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেন। এ কঠিন যাত্রায় অনেকে দুর্ঘটনাজনিত আঘাত ও ১৯৯০-এর দশকের যুগোস্লাভ যুদ্ধে অক্ষত রয়ে যাওয়া ল্যান্ডমাইনে পা দিয়ে প্রাণ হারান।
এ যাত্রার সবচেয়ে বিপজ্জনক বাধা হলো গ্রামাঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া অসংখ্য নদ–নদী; যা অভিবাসীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পার হতে হয়।

মধ্য ভূমধ্যসাগর ও পূর্ব ইজিয়ান সাগরে ডুবে যাওয়া অভিবাসীদের দুর্দশার কথা ভালোভাবে নথিভুক্ত করা হলেও, বলকান অঞ্চলের বিভিন্ন নদ–নদীতে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর দিকে খুব কমই মনোযোগ দেওয়া হয়। ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে টহল দেয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও উদ্ধারকারী জাহাজ, আছে আন্তর্জাতিক হটলাইন। কিন্তু বলকান অঞ্চলে এমন উদ্যোগ তেমনটা চোখে পড়ে না। ফলে এ অঞ্চলে নৌকাডুবিতে মারা যাওয়া অভিবাসী বা অন্যান্য দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করার কোনো সর্বজনীন ডেটাবেস নেই।

তবে বলকান অঞ্চলে যে গুটি কয়েক বেসরকারি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সংস্থা কাজ করে, তার মধ্যে রয়েছে ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিল (ডিআরসি)। সংস্থাটি ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে বসনিয়া অঞ্চলে উদ্বাস্তু বা অভিবাসী ডুবে যাওয়ার ১৯টি ঘটনা রেকর্ড করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা অবশ্যই অনেক বেশি, যদিও তা নির্ধারণ করা অসম্ভব। ডিআরসির গত ছয় মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ অঞ্চলে অভিবাসীদের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশিরা। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ক্রোয়েশিয়ায় ঢুকে ইতালি কিংবা জার্মানিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হলেও অনেকে ব্যর্থ হন। তাঁদের পুশব্যাক করা হয় বসনিয়ায়।

ক্রোয়েশিয়া সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিম বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসাতে অনেক শরণার্থী শিবির আছে। শিবিরের বাসিন্দাদের মধ্যে আছেন কিছু বাংলাদেশিও। এসব শরণার্থীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত। ভাগ্যবদলের স্বপ্ন নিয়ে প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে এখনো অবৈধ পথে ইউরোপ পাড়ি জমাচ্ছেন যে বাংলাদেশিরা, তাঁদের অনেকেরও সে স্বপ্ন হোঁচট খেয়ে বেড়াচ্ছে ওই শরণার্থীদের মতোই ইউরোপের জলে–জঙ্গলে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, ইউএনএইচসিআর, আইওএম, ব্র্যাক

নামাজের সময়সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৪ অপরাহ্ণ
  • ৪:০৩ অপরাহ্ণ
  • ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
  • ৭:০০ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ

Development by: webnewsdesign.com