ব্রেকিং

x


অগ্নিনির্বাপণ মহড়ায় অংশ নেওয়া লঞ্চটি পুড়ল আগুনে

রবিবার, ২৭ মার্চ ২০২২ | ১০:৩২ অপরাহ্ণ | 32 বার

অগ্নিনির্বাপণ মহড়ায় অংশ নেওয়া লঞ্চটি পুড়ল আগুনে

সদরঘাট টার্মিনালে নোঙররত থাকা অবস্থায় যাত্রীবাহী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আজ রোববার সকালে ছবি:

ঢাকার সদরঘাটে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি অ্যাডভেঞ্চার–৯ চলতি মার্চের প্রথম দিকে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে লঞ্চের কর্মীরা প্রশিক্ষণেও অংশ নিয়েছিলেন।



আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট টার্মিনালের ৫ নম্বর পন্টুনে নোঙররত যাত্রীবাহী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বেলা একটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় নৌ পুলিশ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লঞ্চটি থেকে ধোঁয়া বের হলে দ্বিতীয় তলার কেবিন থেকে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা লঞ্চে ফায়ার বাকেট ও পানির পাইপ দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে দ্রুত আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট এসে নৌযান দমকলের সাহায্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, টার্মিনালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও র‌্যাব সদস্যরা এসে আগুন নেভাতে সাহায্য করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অন্যান্য লঞ্চের কর্মচারীরা এসে আগুন নেভানোর কাজ করেন। লঞ্চে পানি সরবরাহকারী একটি নৌযান এসে পাইপ দিয়ে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। এর মধ্যে লঞ্চের পেছন দিকের প্রায় অর্ধেকের বেশি অংশ পুড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী এমভি মানিক লঞ্চের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা জানান, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লঞ্চের দ্বিতীয় তলায় কেবিনের কাছ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখি। এ সময় দৌড়ে গিয়ে দেখি পশ্চিম দিকের দ্বিতীয় তলায় ভিআইপি কেবিনের ভেতরে আগুন জ্বলছে। এ সময় আমিসহ লঞ্চের অন্যান্য লোক আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। একপর্যায়ে আগুনে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।’

এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. মাসুদ বলেন, বরিশাল থেকে ছেড়ে এসে রোববার ভোর ৪টার দিকে লঞ্চটি সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে নোঙর করে। সব যাত্রী নেমে যাওয়ার পর কর্মচারীরা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে লঞ্চটি বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। ভিআইপি কেবিন ধোঁয়ামোছার দায়িত্বে ছিল সজীব হোসেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি কেবিনের কাছে গেলে ভেতরে ধোঁয়া দেখে দৌঁড়ে এসে জানায়। এরপর তাঁরা সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। মুহুর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোকে সংবাদ দেন।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) ওহিদুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ড সাধারণত বৈদ্যুতিক কেবল, চুলা, সিগারেট ও ইঞ্জিনের কেব্‌লসহ বিভিন্ন কারণে লাগতে পারে। কী কারণে লঞ্চে আগুন লেগেছে, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, লঞ্চটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল না। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

লঞ্চটির ব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, কী কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, এখনো স্পষ্টভাবে বলতে পারছেন না তিনি। এটি নাশকতামূলকও হতে পারে। লঞ্চে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ছিল। সেগুলো দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সোহেল রানা বলেন, গত ২৩ ডিসেম্বর অভিযান–১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর চলতি মাসের প্রথম দিকে লঞ্চটিতে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মহড়া দিয়েছিলেন। এতে লঞ্চের কর্মচারীরা প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। কী কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেটি জানার চেষ্টা করছেন। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেটা খোঁজখবর নিয়ে জানা যাবে।

নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোলায়মান মিয়া বলেন, অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন দস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক কেব্‌ল থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। শুনেছেন লঞ্চমালিকপক্ষ দাবি করছে নাশকতার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নামাজের সময়সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
  • ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪০ অপরাহ্ণ
  • ৮:০৩ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

Development by: webnewsdesign.com